King Lear William Shakespeare Translation in Bengali – 3

King Lear

Previous Part

King Lear
King Lear



King Lear – William Shakespeare – Bangla Translation (Part 3 of 7)

কিং লিয়ার – উইলিয়াম শেক্সপিয়ার – বাংলা অনুবাদ – ৩

২য় পর্বের পর থেকে শুরুঃ  

গ্লচেস্টার বললেন, ‘কোনও ভয় নেই তোমার। ওর হাতের লেখাই প্রমাণ করবে ওর ষড়যন্ত্রের কথা। ঐ শোন মহামান্য ডিউকের আগমনের বাদ্যধ্বনি। শয়তানটা যাতে আমার রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য সমস্ত শহর ও বন্দরের পথ বন্ধ করে দেব আমি। রাজ্যের সর্বত্র পথে-ঘাটে ওর ছবি ছাপিয়ে দেব আমি। সন্তানের উপযুক্ত কাজই করেছ তুমি। ওকে আর আমি সন্তান বলে স্বীকার করব না। আমার একমাত্র সন্তান তুমিই আর সমস্ত সম্পত্তি আমি তোমাকেই দিয়ে যাব।’

এ সময় কর্নওয়াল প্রবেশ করে বললেন গ্লচেস্টারকে, কেমন আছ বন্ধু? ভারি একটা আশ্চর্য খবর শুনলাম এখানে এসে।

 ‘এ কথা সত্যি হলে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া কঠিন হবে’ – বলল রিগান, ‘আচ্ছা, বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী কি ওর নাম রাখা হয়েছিল?’

‘সে কথা বলতে আমার বুক দুঃখে বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে ম্যাডাম’ – বলল গ্লচেস্টার।

রিগান বলল, “আচ্ছা, ওকি আমার বাবার উজ্জ্বল নাইটদের মধ্যে একজন? এডমন্ড জানাল, ‘হা ম্যাডাম, ও ছিল তাদেরই একজন।’

একথা শুনে রিগান বলল, এবার বেশ বুঝতে পারছি আমি। বৃদ্ধ পিতাকে হত্যা করতে ঐ শয়তান নাইটরাই প্ররোচিত করেছে তাকে। এডগারের সাথে সাথে তাহলে তারাও ভোগ করতে পারবে সম্পত্তি। আজ সন্ধ্যায় আমি দিদির পাঠানো একটা চিঠি পেয়েছি যাতে এদের সম্পর্কে আমায় সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। সে চিঠিতে দিদি লিখেছে ওরা আসার আগেই আমি যেন বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাই।

কর্নওয়াল বলল, তুমি ঠিক কথাই বলেছ প্রিয়তমা। আর এডমন্ড, যথার্থ পুত্রের মতোই আন্তরিক তোমার কর্তব্যবোধ।

আনন্দে গদগদ স্বরে উত্তর দিল গ্লচেস্টার, ঠিক সে কারণে সে আহত হওয়া সত্ত্বেও সমঝোতা করেনি অন্যায়ের সাথে।

কর্নওয়াল বলল, ‘ওর খোঁজে আপনি চর পাঠান চারিদিকে। এ ব্যাপারে সবরকম সাহায্য আপনি পাবেন আমার কাছ থেকে। আর এডমন্ড, আমাদের এখন প্রয়োজন তোমার মতো সৎ, কর্তব্যপরায়ণ, বিশ্বাসী, বীর যুবকের। আমাদের আন্তরিক ইচ্ছা তুমি সহচর রূপে আমাদের কাছাকাছি থাকো।’

‘এই যদি আপনাদের ইচ্ছা হয়, তাহলে সততা আর বিশ্বাসযোগ্যতার গুণে আপনাদের স্নেহভাজন হতে পেরে আমি ধন্য মনে করছি নিজেকে,’ বলল এডমন্ড।

আনন্দের সাথে গ্লচেস্টারও সায় দিলেন তার কথায়।

রিগান বলল, হে মাননীয় আর্ল অফ গ্লচেস্টার! আপনি আমাদের পুরনো বন্ধু। এই অন্ধকার রাতে আমরা এখানে এসেছি একটা গুরুতর বিষয়ে আপনার পরামর্শ নিতে। আমাদের পিতা কন্যার বিরোধের ব্যাপারে কোনটি গ্রহণযোগ্য সে ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্ত জানালে বাধিত হব।

‘আগে আমার বাড়িতে চলুন। তারপর সবাই মিলে না হয় পরামর্শ করা যাবে’– বলল গ্লচেস্টার।

রিগান বলল, বেশ, তাই চলুন।

 — – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – –

অসওয়াল্ড বলল, অভিবাদন বন্ধু। আমার প্রতি যদি তোমার বিন্দুমাত্রও ভালোবাসা থাকে, তবে সে ভালোবাসার দোহাই, দয়া করে আস্তাবলটা দেখিয়ে দাও আমাকে।

কেন্ট বলল, তোমার প্রতি আমার বিন্দুমাত্রও ভাললাবাসা নেই।

‘তাতে আমার কিছু এসে যায় না,’ উত্তর দিল অসওয়াল্ড।

‘লিপসবেরি পাউন্ডে গেলে কিন্তু গ্রাহ্য করাটা প্রয়োজন হবে’, বলল কেন্ট।

অসওয়াল্ড বলল, আমার সাথে এভাবে ঝগড়া করছ কেন? আমি মোটেও চিনি না তোমাকে।

‘তবে আমরা কিন্তু দুজনে দুজনকে চিনি। তুমি হচ্ছ পরান্নে পালিত একটা নিঃস্ব, দুবৃত্ত, কাপুরুষ ক্রীতদাস। মনে নেই কদিন আগে আমারই আঘাতে রাজার সামনে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলে তুমি! এবার অস্ত্র ধর শয়তান’– চিৎকার করে বলে উঠল কেন্ট।।

অসওয়াল্ড বলল, চলে যাও তুমি। আমার কোনও শত্রুতা নেই তোমার সাথে।

রাগের সাথে কেন্ট বলতে লাগল, ‘তোমার একমাত্র দোষ এই যে তুমি রাজার বিরুদ্ধে উদ্ধত, ঘৃণিত গনেরিলের লেখা চিঠি বয়ে নিয়ে এসেছ। পাজি শয়তান, তলোয়ার না বের করলে তোমার পা দুটোই কেটে নেব আমি।’

 ভয় পেয়ে অসওয়াল্ড যতই সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে লাগল, ছদ্মবেশী কেন্ট ততই আঘাত করতে লাগল তাকে।

খোলা তলোয়ার হাতে ঘরে ঢুকে এডমন্ড ছাড়িয়ে দিল তাদের দুজনকে। ক্রুদ্ধ কেন্ট বলতে লাগল, ‘লড়াই করতে ভয় পাচ্ছ কেন হে ছোকরা!’

অসওয়াল্ড বলল, যদি প্রাণের মায়া না থাকে তবে ভয় পাচ্ছিস কেন? আমাদের উভয়ের মধ্যে লড়াইয়ের কারণটাই বা কী?

রিগান বলল, এদের চিনতে পেরেছি আমি। এরা আমার বোন ও বাবার দূত।

‘তাহলে তোমাদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধল কেন?’ আশ্চর্য হয়ে জানতে চাইল কর্নওয়াল।

অসওয়াল্ড বলল, এই বুড়োটা বেজায় পাজি। শুধু ওর সাদা দাড়ির খাতিরে আমি ছেড়ে দিয়েছি ওকে।।

‘ফের মিথ্যে কথা’, গর্জে উঠে বলল কেন্ট।

‘চুপ কর, তুমি কি ভদ্রতাবোধও ভুলে গেছ?’ বলল অসওয়াল্ড।

কর্নওয়ালকে উদ্দেশ করে কেন্ট বলল, স্যার, এ ধরনের লোকেরা মানুষের ভেতরের কোমল ও পবিত্র সম্বন্ধের অবসান ঘটায়। ভূতের মতো এরা প্রভুকে নির্মল তোষামোদ করে তাকে আরও ভয়ংকর করে তোলে। আবার হাসছিস; মৃগী রোগীর মতো তোর ওই বিবর্ণ মুখটায় নেমে আসুক অভিশাপ। এর মতো বদমাশ লোক আমি কখনও দেখিনি।

‘ও বদমাস কীসে হল? জানতে চাইল কর্নওয়াল।

‘ওর মুখই তার প্রমাণ’, উত্তর দিল কেন্ট।।

অসওয়াল্ড বলল, ‘স্পষ্টবাদী হবার দরুন এ জাতীয় লোকেরা সরল হলেও খুব ভয়ানক বা ধূর্ত হয়, সে কথা আমি জানি।

‘আমার কিন্তু আপনার প্রতি সেরূপ কোনও বদ মতলব নেই’, বলল কেন্ট, আমি সরল তবে প্রতারক নই। আমার মতো সাধারণ শ্রেণির সরল ও সৎ লোক কখনও পর হয় না।

অসওয়াল্ড বলল, ‘ওর বিরুদ্ধে আমার কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই প্রভু। তবে কিছুদিন আগে ভুল বুঝে রাজা লিয়ার আমায় আঘাত করলে এই লোকটাও আমাকে আঘাত করে পেছন দিক থেকে রাজার প্রশংসা কুড়াবার জন্য। এই হীন জঘন্য লোকটা আমায় যাচ্ছেতাই গালাগাল আর অপমান করে।

রেগে গিয়ে অসওয়াল্ড আদেশ দিলেন তার অনুচরদের, ‘বদমাশ মিথ্যেবাদী শয়তান এই বুড়োটার দুপায়ে কাঠের খুঁটো পরিয়ে দাও। ওকে আমি এমন শাস্তি দেব যে—–’

‘স্যার, আমি কিন্তু রাজার দূত। রাজদূতের পায়ে খুঁটো পরালে পরোক্ষভাবে রাজারই অপমান হবে’, বলল কেন্ট।।

রিগান বলল, ও সব কিছু শুনতে চাই না আমি। পায়ে খুঁটো বেঁধে ও দুপুর পর্যন্ত, না, না, রাত পর্যন্ত থাকবে।

‘তাহলে এই সেই অন্যতম বদমাশ, যার কথা বলেছিল গনেরিল,’ বলল কর্নওয়াল।

গ্লচেস্টার বলল, মাননীয় ডিউক, চোরের মতো কঠিন শাস্তি আপনি ওকে দেবেন না। ওর প্রভুর উপরেই আপনি ছেড়ে দিন ওর শাস্তির ভার। রাজদূতকে এভাবে অপমান করলে রাজা রুষ্ট হবেন আপনার উপর।

রিগান বলল, কিন্তু মাননীয় গ্লচেস্টার, ওকে শাস্তি না দিলে যে আমার অনুচরদের প্রতি অন্যায় করা হবে। তাই আপনার অনুরোধ রক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভবপর নয়। এবার কর্নওয়ালের দিকে ফিরে সে বলল, চলুন, আমরা সবাই এখান থেকে চলে যাই।

 সবাই চলে যাবার পর গ্লচেস্টার বলল কেন্টকে, ‘আমি অবশ্য ডিউককে অনুরোধ করব তার এই অন্যায় খেয়ালের পরিবর্তনের জন্য।’

‘না স্যার, আপনি করবেন না,’ বলল কেন্ট, এই সুযোগে আমি কাটিয়ে দেব পথের ক্লান্তি।’

গ্নস্টার চলে যাবার পর আপন মনে বলতে লাগল কেন্ট, হে মূর্খ, আমার এ চিঠি পাঠ করতে সাহায্য করুক তোমার প্রখর কিরণ রাশি। আমি কর্ডেলিয়াকে বিশদভাবে জানিয়েছি আমার সমস্ত কার্যকলাপ। আশা করছি যে কোনও মুহূর্তে তিনি এসে উদ্ধার করবেন আমাদের মহান রাজাকে। হে আমার দু’নয়ন, দীর্ঘদিনের পথশ্রমে তোমরা যে বিধ্বস্ত ও ক্লান্ত তা আমি জানি। এবার সময় এসেছে তোমাদের ভালোমতন বিশ্রাম নেবার। হে সৌভাগ্য, তুমি আমাদের উপর বুলিয়ে দাও তোমার প্রসন্ন দৃষ্টি।

————————————–

ঘরে ঢুকে পাগলের মতো বিড়বিড় করে বলতে লাগল এডগার, ভাইকে বিশ্বাস করে আজ আমার এই অবস্থা! পলাতক আসামীর মতো ঘৃণ্য পোশাকে, গরিবের মতো নগ্নপদে, রুক্ষ, অবিন্যস্ত চুল নিয়ে, গাছের কোটরে দিন যাপন করে, ছদ্মবেশে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে আমাকে। আমার অবস্থাটা সেই গরিব ভিখারি টম টার্লিগদের মতো, যারা নিরাশ্রয় – পরের উপর নির্ভরশীল। তাদেরও কিছু মূল্য আছে, কিন্তু আমার তাও নেই।

—————————————

 আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন রাজা লিয়ার, এতক্ষণে তো আমার অনুচরদের এখানে এসে যাবার কথা, অথচ তুমি বলছ কাল রাতেই হঠাৎ এ বাড়ি ছেড়ে কোথায় যেন চলে গেছে আমার মেয়ে-জামাই। হঠাৎ তার চোখে পড়ল বন্দি অবস্থায় সামনে দাঁড়ান কেন্টকে। বিস্মিত হয়ে তিনি বললেন, এরূপ নির্মমভাবে কে তোমায় বন্দি করেছে?

 বিদূষক বলল, এ ধরনের যন্ত্রণাদায়ক কাঠের লাগাম কেবল পরানো হয় ঘোড়ার মাথায় কুকুর, ভালুকের গলা নতুবা রাজদ্রোহীর পায়ে।

লিয়ার জানতে চাইলেন, বল, কে তোমায় আটকে রেখেছে এ অবস্থায়? কেন্ট উত্তর দিল, ‘প্রভু, সে অপরাধী আপনার মেয়ে-জামাই।’

লিয়ার বললেন, না, না, এ কখনই হতে পারে না। ঈশ্বরের নামে শপথ নিয়ে বলছি, এরূপ ভয়ংকর কাজ করার সাহস তাদের কখনই হবে না।

কেন্ট বলল, হে প্রভু, আপনার প্রতি শ্রদ্ধা নিয়েই বলছি, তারাই করেছে এ কাজ।

লিয়ার বললেন, হায় ঈশ্বর! এত মানুষ খুন করার চেয়েও জঘন্য কাজ। আমি তো তোমায় পাঠিয়েছিলাম শুধু একটা চিঠি পৌছে দিতে। কিন্তু তুমি এমন কী করেছ যার জন্য তারা এই কঠিন শাস্তি দিয়েছে তোমায়?

কেন্ট বলল, আমার চিঠি পাবার পর পরই গনেরিলের পক্ষ থেকে একজন দূত এসে তাকে চিঠি দিল একটা। দ্বিতীয় চিঠিটা পড়ার পরই আমার প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়ে তিনি চলে গেলেন ঘোড়ায় চড়ে। ওরা চলে যাবার পর আমি লোকটাকে চিনতে পেরে রাগের মাথায় তলোয়ার বের করে হত্যা করতে যাই ওকে। ওর চিৎকার শুনে আপনার মেয়ে-জামাই ফিরে এসে এই কঠিন শাস্তি দিয়েছেন আমায়।

‘বাবার টাকা-পয়সা কমে যাবার সাথে সাথে সন্তানের ভালোবাসাও ওঠা-নামা করে’– বলল বিদূষক।।

গভীর দুঃখে ভেঙে পড়ল রাজার লিয়ারের মন। দুঃখের সাথে তিনি বললেন, ‘তোমরা দুজনে শান্ত হও। এভাবে অস্থির করে তুলোনা আমায়! আমি মিনতি করছি, তোমরা দুজনে শান্ত হও। কিন্তু আমার মেয়ে কোথায় গেল কেন্ট?’ বলে ফিরে গেলেন তিনি।

তিনি ফিরে যাবার পর কেন্ট উৎসুক হয়ে বলল বিদূষককে, আচ্ছা, রাজার অন্যান্য অনুচরেরা কোথায় গেল?

বিদূষক হেঁয়ালি করে বলল, একটা পিঁপড়েও শীতকালে কাজ করে না। যার চোখ আছে রাস্তায় সে কখনও সোজাসুজি হাঁটে না। আর যে বুদ্ধিমান, সে কখনও পাহাড়ের ঢালু পথ বেয়ে নেমে আসা চাকার গতি রোধ করে সহজে বিপদে পড়তে চায় না। আর লোভী ও স্বার্থপর লোকেরা বিপদের গন্ধ পেলেই বন্ধুকে ত্যাগ করতে দ্বিধা করে না। কিন্তু আমি তো সামান্য একজন বিদূষক মাত্র। কাজেই সে পথ যারা অনুসরণ করেছে তারা আমার পক্ষে উপযুক্ত নন।

এ কথা শুনে চমৎকৃত হয়ে বললেন কেন্ট, ভারি সুন্দর তোমার উপমাগুলি।

গ্লচেস্টারের সাথে একত্র ঢুকে আপন মনে বলতে লাগলেন লিয়ার, ‘মিথ্যে কথা, অসুস্থতার ভান করে তারা বিদ্রোহ করেছে আমার বিরুদ্ধে। এবার বলে দাও আমি কী করব?

 ‘উঃ এত বড়ো অকৃতজ্ঞ ওরা! বলে দাও গ্লচেস্টার, রিগান আর কর্নওয়ালকে, আমার হুকুম, তারা যেখানেই থাক যেন এখানে চলে আসে। আর সেই রাগী ডিউককেও বলে দিও, সে যেন এই রাগী বৃদ্ধ স্নেহময় সম্রাটের আদেশ অবিলম্বে পালন করে, নইলে…।’ তারপর যে কী ভেবে তিনি বললেন, ‘না, না, আমি একী বলছি! হয়তো সে সত্যিই অসুস্থ। আর এত সবাই জানে যে মানুষ অসুস্থ হলে তার পূর্বের স্বভাবের কিছু পরিবর্তন হয়। কাজেই আমার মেজাজকে সংবরণ করে আমি অপেক্ষা করব তাদের সুস্থতার জন্য।

 এরপর হঠাৎ কেন্টের দিকে তাকিয়ে পালটে গেল লিয়ারের মনোভাব- ‘হায় কী নির্বোধ আমি। আমার এই বৃদ্ধ ভৃত্যের অবস্থা দেখেই বুঝতে পারছি ইচ্ছাকৃত ভাবে চলে গেছে তারা। পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক এটা তাদের একটা চাল। কে আছ, ডিউক ও তার স্ত্রীকে শীঘ্র ডেকে নিয়ে এস এখানে। তারা স্বইচ্ছায় না এলে, আমি নিজে গিয়ে তাদের টেনে আনব এখানে।’

‘আপনি এত উত্তেজিত হবেন না প্রভু। আমি যাচ্ছি’ – বলে চলে গেলেন গ্নস্টার।

লিয়ার বলতে লাগলেন, হে আমার মন! এত সহজেই তুমি ধৈর্যহারা হয়ে চঞ্চল করে তুলো না আমাকে। রাজা লিয়ার করুণ মিনতি জানাচ্ছে তোমার কাছে, তুমি শান্ত হও, থামো।  বিদূষক বলল রাজাকে, ‘গরম কড়াইতে গোটা মাছ ছেড়ে দিয়ে মেয়েরা যেমন তার মৃত্যু কামনা করে, ঘোড়া তৈলাক্ত জিনিস খায় না জেনেও যে নির্বোধ তার বিচালিতে তেল মেশায়, তেমনি আপনিও নির্বোধের মতো বৃথা চেষ্টা করছেন আপনার ক্রোধকে প্রমাণ করতে।’

রিগান বলল, বাবা আপনি আমার শ্রদ্ধা নেবেন।

পূর্বের সবকিছু ভুলে গিয়ে লিয়ার বললেন, আমি জানি তোমরা উভয়েই খুশি হয়েছ আমি আসায়।

রিগান বলল, ‘প্রিয় বাবা, আমার বিবেচনায় সে যদি আপনার উদ্ধত উচ্ছৃঙ্খল নাইটদের আচরণের প্রতিবাদ করে থাকে, তাহলে সে ঠিকই করেছে। আপনার এই মানসিক অসুস্থতা আর দোষহীন দুর্বলতা, যা বার্ধক্যের কারণে হয়েছে বলে আপনি মনে করেন, তার একমাত্র প্রতিকার হল কারও কাছে অনুগত হয়ে থাকা। তাই বলছি আপনি অন্যায় স্বীকার করে ফিরে যান তার কাছে।

 

Next Part

————————————————————————————————————————————————————————————

Read More...

##Discuss the three stages of Chaucer’s poetic development. /Chaucer as a poet.

##Why is Chaucer called the father of English poetry?

##What picture of Anglo Saxon life do you get in Beowulf?

##What is Romanticism? Discuss salient features of Romanticism with special reference to W.Wordsworh and John Keats.

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here